The Largest One-Stop Gardening Solution In Bangladesh

Hotline: +8809678-771388
Email: info@bagan-bari.com

All Blogs

এই শীতে কিভাবে নিবেন আপনার ফুল গাছের যত্ন? জানুন বিস্তারিত
17 February, 2020

শীতে ফুল গাছের যত্নঃ
শীত কাল ফুল গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। কারন এই সময় নানা রকমের ফুল ফোঁটে। নার্সারি গুলোতে পাওয়া যায় হরেক রকমের ফুল গাছ। বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ লাগিয়ে আপনার বারান্দা বা আঙিনা কে করে তুলতে পারেন রঙিন সবুজ ও বৈচিত্রময়।
বারান্দা বা গ্রিলে ঝোলানো টবে লাগানোর জন্য পিটুনিয়া, ন্যাস্টারশিয়াস, অ্যাস্টার, ভারবেনা ইত্যাদি উত্তম। গ্রিলে লতিয়ে দেওয়ার জন্য নীলমণি লতা, মর্নিং গ্লোরি, রেল লতা, সুইট পি ভালো। টবের জন্য নিতে পারেন গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, কারনেশন, ক্যালেন্ডুলা, অ্যাস্টার ইত্যাদি। জমিনের বাগানে সব ফুলই লাগাতে পারেন। চারা তৈরি করার এখন আর সময় নেই। তা ছাড়া ওসব করা ঝামেলারও ব্যাপার। তাই আশপাশের নার্সারি থেকে আপনার পছন্দমতো ফুলের চারা কিনে বাগানে বা টবে লাগিয়ে নিন।
লাগানোর আগে টবের সার মাটি তৈরি করে টব ভরে রেখে দিন। তেমনি বাগানের মাটিও। ফুলের রং ও গাছের উচ্চতা মিলিয়ে বাগানে শীতের ফুলগাছ লাগালে তা বেশি আকর্ষণীয় হবে। যেমন কোথাও পরপর তিন সারি ফুলগাছ লাগাতে হলে প্রথম সারিতে লাগাবেন খাটো গাছের হলদে রঙের ফুল (ইনকা গাঁদা), দ্বিতীয় সারিতে মাঝারি উচ্চতাবিশিষ্ট গাছের কমলা বা লালচে কমলা রঙের ফুল (চন্দ্রমল্লিকা), তৃতীয় সারিতে লাল বা মেরুন রঙের লম্বা গাছের ফুল (ডালিয়া বা কসমস)। ধাপে ধাপে থাকা এসব ফুলগুলো যখন ফুটতে থাকবে তখন বাগান খুবই সুন্দর দেখাবে।
বেশি দিন ধরে ভালো ফুল পেতে চাইলে মাটিতে জৈব সার বা পচা গোবর মেশাবেন। বিকেলে চারা লাগিয়ে চারার গোড়ায় পানি দেবেন। টবে কোনো রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সার দেবেন না। শীতের ভালো ফুলের জন্য রোদ চাই। সে জন্য টবগুলোকে রোদে রাখবেন। গাছে পানি দেওয়ার সময় শুধু গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ঝাঝরি দিয়ে গাছের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো গাছ পাতা ভিজিয়ে নিয়মিত হালকা পানি দিন। এতে গাছ বেশি সতেজ হবে। ফুল ফোটা শুরু হলে তখন থেকে ফুল-পাতা ভিজিয়ে পানি না দেওয়া ভালো। গাঁদা ফুলের আকার বড় করতে চাইলে প্রথম কুঁড়িগুলো নখ দিয়ে খুঁটে ভেঙে দিন। ফুল শুকাতে শুরু করলে দ্রুত তা গাছ থেকে কেটে ফেলুন। বাগানের আগাছা পরিষ্কার করে বাগান সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাগান তো সুন্দরের জন্য। তাই সৌন্দর্যের জন্য যা করা দরকার তাই করবেন। আপনার রুচির পরিচয় ফুটে উঠবে শীতের এসব ফুল ফোটা বাগানের ভেতর দিয়ে।

ইন্ডোর গাছের যত্নের বিস্তারিত
17 February, 2020

ইন্ডোর গাছের যত্ন

প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এখন অনেকেই ঘরে বা অফিসে গাছ লাগান। কিন্তু সঠিক যত্নের অভাবে গাছ টি কিছুদিন পর হয়তো মারা যায়, নাহয় নিস্তেজ হয়ে পরে। আমাদের আজকের লেখা তাই ইন্ডোর গাছ বা ঘরের ভিতরের গাছ নিয়ে। এটি যদি আপনাদের উপকারে আসে তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা। আসুন জেনে নেই ইন্ডোর গাছের যত্ন সম্পর্কে।
গাছের প্রকৃতি জানুনঃ আপনার ঘরের গাছ বা ইনডোর প্লান্ট এর সঠিক যত্ন নিতে হলে প্রথমে আপনাকে গাছের প্রকৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। আসলে সব গাছেরই বাচার জন্য খাবার, পানি ও সূর্যের আলো প্রয়োজন তবে তা একেক গাছের ক্ষেত্রে একেক পরিমানের। আর তাই আগে ভালোভাবে জানতে হবে কোন গাছে জন্য কি উপাদান কি পরিমানে সর্বরাহ করতে হবে।
নতুন গাছ পর্যবেক্ষণঃ যখনই কোন নতুন চারা বা গাছ আপনার শখের বাগানে যুক্ত করবেন তখন ভালোভাবে তার পাতা, কান্ড ও গোঁড়া পরিক্ষা করতে ভুলবেন না যেন। কারন নতুন গাছে পোকা বা ছত্রাকের সংক্রমণ থাকলে তা খুব দ্রুত অন্যসব গাছে ছড়িয়ে পরবে যা কোনভাবেই আপনার ইন্ডোর প্লান্টের জন্য সুখকর নয়।
সঠিক জায়গা নির্বাচনঃ সঠিক জায়গায় ইন্ডোর প্লান্ট স্থাপন খুব গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জায়গায় আপনার ঘরের গাছগুলো নিরাপদে বেড়ে উঠতে অনুকূল পরিবেশ পাবে। তাই খুব উত্তপ্ত বস্তুর নিকট, এয়ারকন্ডিশনের কাছাকাছি স্থান, টেলিভিশনের উপর বা পর্দার মাঝামাঝি জায়গা পরিহার করাই উত্তম।
সঠিক মাত্রার আলোঃ সূর্যের আলো সকল গাছের জন্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই যে গাছের জন্য বেশি আলো প্রয়োজন সেটিকে দক্ষিণ দিকের জানালার কাছে স্থাপন করুন কেননা ঘরে দক্ষিণ মুখী জানালাতেই বেশি রোদ আসবে। আর পূর্ব ও পশ্চিম মুখী জানালায় মাঝারি এবং উত্তর দিকে অপেক্ষাকৃত কম আলো পরে। তাই গাছের আলোর প্রয়োজন অনুসারে জানালার কাছাকাছি স্থান নির্বাচনও জরুরী। আর ইন্ডোর গাছ গুলিকে সপ্তাহে ২/৩ দিন রোদে দিলে গাছ বেশী সতেজ থাকবে।
বিশুদ্ধ মাটি ব্যবহারঃ সবসময় ঘরের গাছের জন্য টবে মাটি ভর্তি করার পূর্বে টব ও মাটি বিশুদ্ধ করে নিবেন। পরিস্কার ও বিশুদ্ধ মাটি সুস্থ গাছের জন্য অপরিহার্য। এতে করে মাটির ফাংগাস ও অন্যান্য মাটি দ্ধারা ছড়ানো রোগসমূহ থেকে আপনার গাছ নিরাপদে থাকবে।


পোকা দমনে রাখাঃ ঘরের গাছকে পোকা আক্রমন করার আগেই নিতে হবে কিছু পদক্ষেপ। আর যেহেতু তা একেবারে আপনার ঘরের ভিতরে সেজন্য অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিই আপনার জন্য বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে আপনি নিমের তেল, এন্টি-ইন্সেক্টিসাইড সাবান, ফ্লাই লাইট, স্টিকি বোর্ড, সেক্স ফেরোমেন ট্র্যাপ ইত্যাদি যেকোন একটা পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।
পানির পরিমিত প্রয়োগঃ আসলে সকল ইন্ডোর প্লান্টের সমান পানির প্রয়োজন হয়না। যেমন, ফুলের গাছ, মাটির ছোট পাত্রের গাছ, সরাসরি সূর্যের আলোতে স্থাপিত, বড় ও পাতলা পাতাযুক্ত এবং স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার গাছের জন্য বেশি পানি দরকার। অন্যদিকে সদ্য পাত্র পরিবর্তিত গাছ, অধিক আদ্রতায় বেড়ে উঠা গাছ, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঘরে রাখা, মোটা পাতাযুক্ত এবং বিশেষ করে কম ছিদ্রযুক্ত টবে রাখা গাছের পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক কম।
পরিমিত সার প্রয়োগঃ ইন্ডোর প্লান্টেরও বেড়ে উঠার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত সঠিক মাত্রায় সার। কোন গাছের কি সার কি পরিমান প্রয়োজন তা জেনে বুঝে নিয়মত প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। তবে সাধারণত প্রায় সকল ইন্ডোর প্লান্টের জন্যই জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সারের চাহিদা বেশি থাকে।
পাতা পরিস্কার করাঃ ঘরের গাছের পাতায় ধুলো বালি লেগে থাকা শুধু এর সৌন্দর্য নষ্ট করে তাই নয় বরং এই অবস্থা গাছের জন্যও ক্ষতির কারন। আর তাই বছরে কয়েকবার নরম কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে গাছের পাতা পরিস্কার করে দিন। বেশি ভালো হয় যদি আপনি পাতা পরিস্কার করার সময় অল্প নিমের তেল বা এন্টি-ইন্সেক্টিসাইড সাবান ব্যবহার করেন।
পাত্র পরিবর্তনঃ যখন আপনার টবের গাছ বড় হয়ে যাবে বা শিকড় বৃদ্ধি পাবে তখন বুঝে শুনে পাত্র পরিবর্তন করাই উত্তম। পাত্র পরিবর্তনের সময় টবের নিচের দিকে এক টুকরো ফোম বা স্পঞ্জ দিয়ে দিলে তা অল্প পরিমানে পানি ধরে রাখবে যা টবের গাছেড় জন্য সুফল বয়ে আনবে।
মৃত ডাল কাটাঃ অনেক সময় ইন্ডোর প্লান্টের ডাল, ফুল ও শিকড় মরে যায়। সেগুলো গাছের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে যায়। সময় মত সেগুলো কেটে বাদ দিতে হবে। তাহলে টবের গাছ আরো বেশি ফুল ও ফল দিতে সক্ষম হবে।

যত্ন নিন আপনার শখের অর্কিডের
17 February, 2020

অর্কিড এর সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী ফুলের জন্য এটি সবার কাছে ভীষন জনপ্রিয় । বাসা কি অফিস, অন্দরসজ্জার জন্য এর কদর সবসময় স্বীকৃত। এর আকর্ষনীয় ফুল যেকোন জায়গা কে করে তোলে আরও আকর্ষনীয় ও সুন্দর। সুন্দর, সতেজ ও বেশী ফুলের জন্য চাই সঠিক যত্ন। আজ তাই আমাদের আজকের আলোচনা অর্কিড এর যত্ন নিয়ে। চলুন, জেনে নেয়া যাক, কিভাবে নিবেন আপনার শখের অর্কিড এর যত্ন।

সঠিক ভাবে পানি দেয়া
স্প্রে বোতল এর সাহায্যে অর্কিডে পানি দিন। অর্কিডে উপর থেকে কখনোই পানি দেয়া যাবেনা। কারন এতে করে ফুলের কুড়িতে ও পাতার ফাঁকে পানি জমে থাকে। যা আপনার শখের অর্কিডে পচন ধরাতে সাহায্য করে। যদি কখনো পানি দিতে গিয়ে অর্কিড গাছ সম্পূর্ণ ভিজে যায় তবে সাথে সাথেই একটি পেপার ট্যিসু দিয়ে তা যথা সম্ভব মুছে শুকনো করে নিন।
· টবের জমে থাকা পানি অপসারণ
অর্কিড বেশি পানি সহ্য করতে পারেনা। আর বিশেষ করে ফুটন্ত অর্কিড এর টব বা পাত্রে কোনভাবেই অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে দেয়া যাবেনা। টবের অতিরিক্ত পানি যাতে খুব সহজেই বেরিয়ে যায় সেদিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখুন।
· ঠান্ডা পানি না দেয়া
অর্কিড এর বেশিরভাগ প্রজাতিই খুব স্পর্শকাতর। খুব ঠান্ডা পানি অর্কিডের মূলের ক্ষতি করে থাকে। সব সময় অর্কিডে সাধারন নাতিশীতোষ্ণ পানি সর্বরাহ করুন। বরফ টুকরো দিয়ে ইন্ডোর প্লান্টে পানি দেয়ার পদ্ধতি অন্তত অর্কিডের ক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য।
· খাবার সর্বরাহ
সঠিক পরিমানের উপযুক্ত খাবার আপনার অর্কিডের গাছ ও ফুলের জন্য অপরিহার্য। যা অর্কিডের জীবনকাল ও লাবন্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। মাসে অন্তত একবার অর্কিডের গাছে খাবার দিন। আপনি যে কোন সুপার শপে অর্কড ফুড কিনতে পাবেন বা অনলাইন শপেও অর্ডার করতে পারেন।
· লেগে থাকা ডাল আলাদা না করা
অর্কিডের গোঁড়ার দিকে ডাল গুলো একসাথে চাপাচাপি করে লেগে থাকে। এগুলো অর্কিডের পাওয়ার হাউস বা ব্যাটারির মত কাজ করে। অর্কিডের ভালো বৃদ্ধি আশা করলে কখনোই এইগুলা আলাদা করা যাবেনা।

· শিকড়ের দিকে খেয়াল
অর্কিডের শিকড় খুব সহজেই বুঝিয়ে দেয় তার স্বাস্থ্যের কথা। সবুজ রঙের শিকড় হলে বুঝবেন গাছের সার, জল, আলো সব পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। অন্য দিকে শিকড় সাদাটে কিংবা ধূসর হতে শুরু করলে জল দেওয়া প্রয়োজন। আর যদি শিকড় বাদামি বা খয়েরি হতে শুরু করে, বুঝবেন যে, অতিরিক্ত জল দেওয়া হচ্ছে অর্কিডে। সে ক্ষেত্রে জল দেওয়া বন্ধ করুন। যতক্ষণ না শিকড় সব জল শুষে নেয়।
· পাতার যত্ন
শিকড়ের মতোই পাতাও জানান দেয়, অর্কিড কেমন আছে। পাতার রং সাদা হতে শুরু করলে বুঝবেন অতিরিক্ত আলো পড়ছে। সে ক্ষেত্রে ক’দিন কম আলোয় রাখুন অর্কিড। গাঢ় সবুজ পাতার অর্থ অর্কিড পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো পাচ্ছে না। আবার পাতায় কালো রং ধরতে শুরু করলে বুঝবেন, ব্যাকটিরিয়া কিংবা ফাঙ্গাস ধরেছে অর্কিডে। সারে অতিরিক্ত মিনারেলের পরিমাণ থেকেও এ রকম হতে পারে।

টবের গাছের যত্ন
17 February, 2020

ইট কাঠের শহরে বাগান করার জন্য বারান্দা বা ছাদ ই একমাত্র ভরসা। আর ছোট্ট পরিসরে গাছ লাগানোর জন্য আমরা বেছে নেই টব বা ড্রাম। টবে গাছ লাগানোর আগে মেনে নিতে হবে কিছু নিয়ম কানুন। গাছ তার প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান এই টবের মাটি থেকেই গ্রহন করে থাকে। তাই গাছের বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য টবের মাটি কে হতে হবে পুষ্টিগুন সম্পন্ন। তাই আজকের আলোচনা টবের গাছের যত্ন নিয়ে।
প্রথমেই টবের জন্য উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করুন। দীর্ঘজীবী অথবা বৃক্ষজাতীয় গাছ টবে বেশিদিন বাঁচে না। নানা ধরণের মৌসুমি ফুল টবের জন্য সবচেয়ে ভালো। সব মৌসুমের ফুল কিছু কিছু করে লাগাতে পারেন। এতে সারা বছরই বিভিন্ন ফুলের দেখা মিলবে আপনার টবে। গোলাপ, গাঁদা, বেলি, অপরাজিতা, ডালিয়া, চন্দ্রমলি¬কা, নয়নতারা, গন্ধরাজ গাছ লাগাতে পারেন বারান্দায় রাখা টবে। ছাদে জায়গা থাকলে বড় বা মাঝারি টবে হাসনাহেনা, জুঁই, বাগানবিলাস, টগর, জবা কিংবা শিউলি ফুল গাছ রাখা যেতে পারে। ফুলের পাশাপাশি ফল গাছও লাগাতে পারেন টবে। তবে এজন্য পর্যাপ্ত রোদ, আলো বাতাস ও প্রশস্ত জায়গা থাকা জরুরী। সবচেয়ে ভালো হয় বাড়ির সামনের খোলা জায়গা অথবা ছাদে রাখা টবে ফলের গাছ লাগালে। পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা, ডালিম, লেবু, মরিচ গাছ ছাদে বা ড্রামে লাগানো যেতে পারে।
টবে চারা রোপণের আগে দোঁআশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। সঙ্গে একমুঠো হাঁড়ের গুঁড়া, দুই চামচ চুন, দু'মুঠো ছাই মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে টবের মাটির উর্বরতা অটুট থাকবে দীর্ঘদিন। চারাটি যেন সতেজ ও প্রানবন্ত হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। গাছ লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। তারপর গোড়ায় পানি দিন সামান্য। গাছ লাগানোর পরপরই কড়া রোদে রাখবেন না। কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে তারপর রোদে দিন। সকাল ও বিকেলের হালকা রোদে দিতে পারেন প্রথম কিছুদিন। দ্রুত বেড়ে ওঠা শুরু করলে গাছকে সোজা রাখার জন্য বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে টবের গাছ খুব বড় হতে দিবেন না। বাড়তি অংশ ছেঁটে দিন কিছুদিন পর পর। মাসে একবার নিড়ানির সাহায্যে গোঁড়ার মাটি খুঁচিয়ে জৈব সার দিন। গাছের ফুল শুকিয়ে গেলে একটু নিচ থেকে ডালসহ কেটে দিন। নতুন পাতা গজানোর সময় এক চিমটি ইউরিয়া সার এক লিটার পানিতে গুলে গাছের গোঁড়ায় দিন। ট্যাবলেট সারও দিতে পারেন। ফুলের আকৃতি বড় হবে। গাছে কীটনাশক দিন নিয়মিত। খুব প্রয়োজন না হলে এক টব থেকে অন্য টবে গাছ স্থানান্তর করতে যাবেন না।
ছাদ ও বারান্দার পাশাপাশি ঘরে কিংবা সিঁড়িতেও রাখতে পারেন টবসহ বিভিন্ন গাছ। মানিপ্লান্ট, ড্রেসিনা, পাম, পাতাবাহার ইত্যাদি গাছ রাখতে পারেন ভেতরে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহে একদিন টবটি বারান্দায় রাখার চেষ্টা করুন। টবের গোঁড়ায় একসাথে বেশি পানি দিবেন না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে গাছ রাখা উচিত নয়।
জেনে নিন
* ছোট টবে বড় গাছ লাগানো যেমন অনুচিত তেমনি বড় টবে ছোট গাছও বেমানান দেখায়।
* টবের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে অবশ্যই। যাতে অপ্রয়োজনীয় পানি চুইয়ে পড়তে পারে। ছিদ্রটি ছোবড়া বা ইটের টুকরো দিয়ে ঢেকে তারপর টবে মাটি রাখুন।
* খুব ভারি টবের নিচে প্লেট রাখা জরুরী। প্রয়োজনে কয়েকটি ইটের উপর বসাতে পারেন টব।
* ফুল শুকানো শুরু করলেই ছেঁটে দিন। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফুল ফুটাতে সক্ষম হবে আপনার প্রিয় গাছটি।
* মানি প্ল্যান্টের মতো যেসব গাছ পানিতে রাখতে হয় সেগুলো রাখার জন্য বাড়িতেই কন্টেইনার তৈরি করতে পারেন। পুরনো প্লাস্টিকের কন্টেইনার বা সিরামিকের মগে সাজিয়ে রাখুন। দেখতে সুন্দর লাগবে এবং বাড়ির মধ্যে সবুজের ছোঁয়াও থাকবে

* পুরনো চায়ের কেটলি বা সুগার পটের হ্যান্ডেল ভেঙে গেলে পরিষ্কার করে রাখুন। এরপর ভাঙা জায়গায় রঙ করে নিন। বাথরুম বা কিচেনে একটু সবুজের ছোঁয়ার জন্য এসব কন্টেইনারে গাছ লাগাতে পারেন। দেখতে সুন্দর লাগবে মনও উৎফুল্ল থাকবে।
* যে ধরনের গাছের গোড়া পানিতে রাখলেই তৈরি হয় সেগুলো কাচের জারে রাখুন। গাছের মূল বেড়ে উঠলে পানি ফেলে দিয়ে মাটি দিয়ে ভরে রাখুন।
* গাছ দিয়ে ঘর সাজানোর আগে পাতা ও ডাল ছেঁটে রাখুন। মরা বা হলদেটে পাতা ফেলে দিবেন, দেখতে ভালো লাগবে।


* ক্যাকটাস দিয়েও ঘর সাজাতে পারেন। এর একটা সুবিধা হচ্ছে বেশি পানি দেয়ার দরকার হয় না। এমনিতেই বড় হয়।
* দূরে কোথাও গাছ নিয়ে যেতে চান, তাহলে গাছের গোড়ায় ভেজা চা পাতা দিন। তাহলে গাছেল গোড়ার মাটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাওয়ার আশংকা কম থাকে। অনেকক্ষণ ফ্রেসও থাকবে।
* বাড়িতে গাছের যত্নের জন্য সার বানাতে পারেন। ফেলে দেয়া চা পাতা ও ডিমের খোসা গুঁড়ো করে একসঙ্গে মিশিয়ে ৭-৮ দিন রোদে রাখুন। গোলাপ ও অন্যান্য ফুলের গাছের সার হিসেবে খুব ভালো কাজ করবে।
* নতুন চারাগাছ বেড়ে ওঠার জন্য পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি না দিয়ে বারবার অল্প করে পানি দিন।
* টবের মধ্যে লাগানো গাছে কী পরিমাণে পানির দরকার তা বুঝতে অসুবিধা হয়। এছাড়া বেশি পানি দিলে গাছের গোড়া পচে যায়। তাই চিকন লম্বা তার মাটিতে ঢুকিয়ে রেখে দেখুন তারে মাটি লেগে আছে কিনা। ভিজা মাটি লেগে থাকলে বুঝবেন পানি দেয়ার দরকার নেই।
* বেশি পরিমাণে পানি দিলে যেমন গাছের ক্ষতি হয়, তেমনি কম পরিমাণে পানি দিলেও গাছের সজীবতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই সকালে বা বিকেলে যখন রোদের তেজ কম থাকে সেই সময় গাছে পানি দেয়ার আদর্শ সময়।
* অন্দরের গাছকে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার গাছ রোদে দিতে হবে। সকালের হালকা রোদই উপকারি। রাতে গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে, তাই সম্ভব হলে রাতে শোবার ঘর থেকে সরিয়ে বারান্দায় রাখুন। আর যদি সরানো সম্ভব না হয় তবে শোবার ঘরের জানালা খুলে রাখুন।
* ৭ থেকে ১০ দিন পর পর টবের মাটি উলট পালট করে দিন, এতে গাছের মাটির নিচের ক্ষতিকর গ্যাস বের হয়ে যাবে। তবে খুবই সাবধানে কাজটি করতে হবে। যাতে গাছের শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়।
* কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যাচ্ছেন অথচ বারান্দার টবে কয়েকটা গাছ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরাসরি রোদ আসে এমন জায়গা থেকে গাছ সরিয়ে রাখুন। আর বেড়াতে যাওয়ার দিন মনে করে গাছে পানি দিন।টবটি পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে পারেন, এতে ময়েশ্চার বজায় রাখবে। প্রতিদিন পানির দরকার হয় এমন গাছের টবের অংশটি বড় পাত্রে পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।
* অতিরিক্ত আলোর নিচে গাছ রাখলে গাছের রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়। তাই ঠাণ্ডা ও আলো কম পৌঁছায় এমন জায়গায় গাছ রাখুন।
* সিজনাল ফুল হলে বীজ সংগ্রহ করে রাখুন পরের সিজনের জন্য। বীজ বেশী হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন, দেখবেন মনে বেশ শান্তি লাগবে। আবার অন্যদেরও সংগ্রহ বাড়বে।
*টবে ঝাঁঝরি দিয়ে পানি সেচ দেওয়া ভাল। মাটিতে রস কম থাকলে গাছ বাড়ে না। আবার অতিরিক্ত পানিতে গাছের শিকড় ও গোড়া পচে যায়। চারাগাছ লাগানোর পর পানির অভাবে টবের গাছ শুকিয়ে যায়, তবে বেশি পানি হলে গাছ পচে যেতে পারে।চারা লাগানোর পর এমন পরিমান সেচ দিতে হবে যেন টবের মাটি সাতদিন পর্যন্ত ভেজা থাকে। পানি সেচের জন্য বিকেল বেলাই ভাল। জৈব কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগের পর এমন পরিমাণ সেচ দিতে হবে যাতে মাটি তিন দিন পর্যন্ত ভেজা থাকে। বর্ষাকালে টব স্যাঁতসেঁতে মাটির উপরে রাখলে তলার ছিদ্র দিয়ে ঠিকমত পানি নিস্কাশন নাও হতে পারে। এজন্য এ সময়ে ৩-৪ ইঞ্চি ফাঁক করে ইট স্থাপন করে তার উপর টব রাখা যেতে পারে।
*টবের মাটি ও খাদ্যোপাদান সীমিত বলে সব টবের গাছেই উপরি সার দেয়ার দরকার হয়। এই উপরি সার টবের চারিদিকে কানা ঘেষে ৬ সেঃ মিঃ গভীর ও ৩ সেঃ মিঃ চওড়া করে মাটি খুঁড়ে সমান হারে দিয়ে আবার মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গাছ লাগানোর পর থেকে খৈল,মাছ গোবর ইত্যাদি পচা আধা লিটার পানি চার লিটার পানির সাথে মিশিয়ে প্রতি গাছে আধা লিটার করে প্রতি সপ্তাহে একবার করে দিতে হবে। তরল সার ব্যবহারের সময় গাছের গোড়ার মাটি বেশ ভেজা ভেজা থাকা দরকার। তাই এ সার ব্যবহারের কয়েক ঘন্টা আগে গাছে একবার সেচ দিয়ে নিতে হয। তরল সার দেয়ার পরও একবার সেচ দিলে ভাল হয়।
*কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ২৫ গ্রাম এমপি এক সাথে মিশিয়ে প্রতি গাছে তিন গ্রাম করে সাত দিন অন্তর দিতে হবে। এই রাসায়নিক সার তিন বারের বেশি দেবার দরকার নেই। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোন ক্রমেই শিকড়ের উপর না পড়ে।
ঘরে প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করে সজীবতা আনতে গাছের কোন বিকল্প নেই। এক টুকরো সবুজ যে প্রশান্তি দিতে পারে তা অন্য কোনো কিছুর দ্বারা সম্ভব না। তাই গাছ লাগান আপনার বাসায়, বারান্দায় বা ছাদে। আর থাকুন সবুজের মাঝে।

অর্কিড রি-পটিং
17 February, 2020

অর্কিড রিপটিংঃ
অর্কিড আমাদের সবার কাছেই সমান জনপ্রিয়। নার্সারি থেকে অর্কিড কেনার পর যখন অনেক বড় হয়ে যায়, তখন গাছের বাড়তি পুষ্টি যোগানের জন্য একে বড় পটে রিপটিং করার প্রয়োজন পরে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা টবে কিভাবে অর্কিড লাগাবো বা রিপটিং করব। তাই আমাদের আজকের আলোচনা অর্কিড রিপটিং নিয়ে।
নারিকেলে ছোবড়া আগের রাতে ২ লিটার পানিতে আধা চা চামচ ছত্রাকনাশক দিয়ে ভিজিয়ে রাখবেন।
একইভাবে সকালবেলা ইটের খোয়া আর কয়লা ধুয়ে নিবেন।
যে গাছটা রিপট করবেন ওটাও ২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন তাতে সহজে খোলা যাবে।
গাছের শিকড় একইভাবে ছত্রাকনাশক দেয়া পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন।
গাছের শিকড়ে রুট হরমোন পাউডার হালকা করে লাগাবেন তাতে শিকড় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
এবার অর্কিড রি-পটিং করার পালা।
ভেন্ডার জন্য,যে গুলার শিকড় মোটা.:
১) টবের প্রথমেই দিতে হবে কোকো হাস্ক বা নারিকেলের খোসা একুটু আস্ত আস্ত কেটে টুকরা করে নিয়ে দিতে হবে ।
২)এর পরের লেয়ারে দিতে হবে কাঠ কয়লা ।
৩)তারপর চারা গাছটি দিতে হবে।
৪)মাটির সাথে কোকপিটের গুড়া , হালকা ভার্মি কোম্পোষ্ট মিশ্রন করে টবে দিবেন।
৫)পরের স্থরে নারকেলের ছোলা দিয়ে টবের উপরের অংশ ঢেকে দিতে হবে।
৬) অর্কিড বেশি রোদ যুক্ত জায়গা পছন্দ করে না ।
ডেনড্রবিয়াম (যে গুলার শিকড় চিকন) এর জন্য:
১)টবের চারপাশে নারকেলের ছোলা দিয়ে মাঝ খানে গাছ সেট করে দিবেন।
নতুন করে পটিং করার পর গাছে ৪/৫ পানি দেয়ার প্রয়োজন নেই। ৪/৫ দিন পর প্রতিদিন গাছে পানি স্প্রে করেদিন। দিনে ১১ টার মাঝে। আর সপ্তাহে একবার টব পানিতে ভিজিয়ে ঝুলিয়ে দিন।
অবশ্যই সতেজ গাছ নির্বাচন করতে হবে । সাথে সঠিক টবও চাই। টবে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে, সেই মোতাবেক উপকরণ দিতে হবে ।
পানি কোনভাবেই আটকে থাকা যাবে না। গাছ এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন সারাদিন ছায়া থাকলেও শেষ বিকেলের রোদ যেন গাছের গায়ে পড়ে, কিন্তু কখনই কড়া রদ দেয়া যাবে না। সারও প্রয়োগ জরুরী।
(ইউরিয়া ১০ গ্রাম,পটাশ ১৫ গ্রাম, টি,এস পি ১৫ গ্রাম(প্রতি লিটারে) ১ মাস অন্তর স্প্রে করে দেখতে পারেন গাছের পাতায়। গাছের গোড়ায় ও পাতায় ফাঙ্গাসের জন্য ডায়থেন-এম ৪৫ এক মাস অন্তর(লিটারে সাড়ে চার গ্রাম) দিয়ে স্প্রে করতে হবে।
আবার আপনি চাইলে এনপিকে ১৯:১৯:১৯ স্প্রে করতে পারেন । আর একটা বিষয় কলি আসলে সার স্প্রে করা যাবে না।
আর এভাবেই সুস্থ ও সুন্দর থাকবে আপনার শখের অর্কিড।

গোলাপ গাছের যত্ন এবং চাষ পদ্ধতি
24 December, 2019

গোলাপ কে ফুলের রানী বলা হয়। এর সৌন্দর্য এবং রুপচর্চায় এর ব্যবহার এর ফলে দিন দিন গোলাপ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনার গোলাপ গাছ টিকে ভালো রাখতে এবং এর ফুল বেশী পেতে এটার দরকার বাড়তি যত্ন। চলুন যেনে নেয়া যাক গোলাপ গাছের যত্ন এবং চাষ পদ্ধতি।

 

 

টবে গোলাপের চাষপদ্ধতিঃ

টবের স্থানঃ খোলামেলা ও আলো বাতাসপূর্ণ এমন স্থানে গোলাপের টব রাখতে হবে যেখানে গাছ সকালের সূর্য কিরণসহ ৬-৮ ঘন্টা রোদ পায়। বিকেলের রোদ (বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে) না লাগানোই ভালো, কেননা এতে ফুলের রং ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে। লক্ষ রাখতে হবে গোলাপ গাছে যাতে চারিদিক হতেই আলো পড়ে। কেননা একদিকে আলো পেলে গাছটি কেবল আলোর দিক দিয়েই বাড়বে। এজন্য টবসহ গাছটি মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে নিতে হবে। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ থেকে টবের গোলাপ গাছকে রক্ষা করার জন্য পর্যায়ক্রমে রোদ ও ছায়ায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে টব রাখলে গাছ ভালো থাকবে এবং ফুলও বেশি দিন পাওয়া যাবে।

মাটি তৈরিঃ এঁটেল মাটি গোলাপ চাষের জন্য উপযোগী নয়। টবের জন্য সার মাটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে মাটি বেশ ফাঁপা থাকে এবং পানি জমে না থাকে। ১ ভাগ দোআঁশ মাটি, ৩ ভাগ গোবর সার বা কম্পোষ্ট, ১ ভাগ পাতা পচা সার, আধা ভাগ বালি (নদীর সাদা বালি হলে ভাল হয়) দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তাতে এক মুঠো সরিষার খৈল ও এক চামচ চুন মিশিয়ে ১টি ২০ সেমি (৮ ইঞ্চি) টবে ১ মাস রেখে দিতে হবে। এই ১ মাস টবে পানি দিয়ে মাটি উল্টে পাল্টে দিতে হবে। এতে মাটির মিশ্রণ ভালো হবে। অনেকে মাটির মিশ্রণে ব্যবহৃত চা পাতা ব্যবহার করেও ভালো ফল পেয়েছেন। টবে নিচের কয়েক সেমি পরিমাণ অংশে ইট বা মাটির হাড়ি পাতিলের ভাংগা টুকরা এমনভাবে বিছিয়ে দিতে হয় যাতে টবের মাটি এগুলোর উপর থাকে। এতে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হবে।

টবের আকারঃ টবের আকার নির্ভর করে যে গোলাপের চাষ করা হবে তার জাতের উপর। ছোট জাতের জন্য ২০ সেমি (৮ ইঞ্চি) টব, বড় জাতের জন্য ৩০ সেমি (১২ ইঞ্চি) বা আরো বড় টব ব্যবহার করতে হবে। তবে প্রথম বছর যে আকারের টবে গাছ বসানো হবে পরের বছর বড়- আকারের টবে গাছ স্থানান্তর করলে বড় আকারের বেশি ফুল পাওয়া যাবে।

টবে চারা বসানোর সময়ঃ বছরের যে কোন সময়ই টবে গোলাপের চারা বসানো যায়। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস চারা লাগানোর উত্তম সময়। এ সময় চারা লাগালে বেশি দিন ধরে ফুল পাওয়া যাবে। এছাড়াও গাছের পরিচর্যা করতে সুবিধা হবে এবং গাছে রোগ ও পোকার আক্রমণ তুলনামুলকভাবে কম হয়ে থাকে।

চারা সংগ্রহঃ চারা সংগ্রহের সময় সুস্থ ও ভালো চারা সংগ্রহ করা উচিত। চারা সংগ্রহের সময় এর গোড়ার মাটির গোল্লাটি অবিকল আছে কিনা তা ভালো করে দেখে নিতে হবে। মাটির গোল্লাসহ চারার গোড়ার শিকড় বেরিয়ে থাকা অবস্থার চারা গাছ না নেওয়াই ভালো। অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্বস্ত ও পরিচিত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা উত্তম।

টবে চারা বসানোঃ চারাগাছ বা কলমচারা মাটির গোল্লাসহ পলিথিন ব্যাগে অথবা ছোট মাটির টবে কিনতে পাওয়া যায়। চারাটি যদি টবের হয়, তাহলে টব থেকে পুরো মাটিসহ চারাটি এমনভাবে নিতে হবে যাতে ভেংগে না যায় বা শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। ভেজা মাটির গোল্লাসহ চারা সংগ্রহ করলে তা একটু শুকিয়ে নিতে হবে। চারা বসাবার আগেই গাছের অপ্রয়োজনীয় পুরোনো বা মরা ডাল পালা হালকা ভাবে ছেঁটে দিতে হবে। এরপর চারাটি টবের মাঝখানে সোজা করে বসিয়ে টবের ওপরে কিছু কম্পোষ্ট সার দিয়ে গাছের গোড়ারমাটি হালকা চাপ দিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। চারা এমনভাবে বসাতে হবে যাতে কুঁড়ি বের হবার গিট/ পর্ব টি মাটির ওপরেই থাকে।

সেচঃ টবে বসানোর পর অন্তত ২-৩ বার পানি সেচ দিতে হবে। চারা অবস্থায় গাছ যাতে প্রখর রোদ বা বৃষ্টির ঝাপ্টা থেকে রক্ষা পায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথম অবস্থায় ৩/৪ ঘণ্টা  এবং ধীরে ধীরে বাড়াতে বাড়াতে ৬-৭ ঘণ্টা রোদ পাওয়ার ব্যবস্থা করলে গোলাপের ফলন ভালো হবে। পানি সেচের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় পানি দাঁড়িয়ে না থাকে। কচি পাতা ও কুঁড়ি ছাড়ার সময় পানি বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে। এ সময় সকাল সন্ধ্যা সেচ দেওয়া উচিত। ঝাঁঝরি দিয়ে ডালপালাসহ সমস্ত গাছটিই পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।

সার প্রয়োগঃ টব বসাবার ১ মাস পর থেকে ১৫-৩০ দিন অন্তর অন্তর সার দিতে হবে। শীতের ঠিক পরেই অর্থাৎ মার্চের শেষে বা এপ্রিলের প্রথম দিকে টবের উপরের ৮/১০ সেমি মাটির স্তর তুলে দিয়ে খালি জায়গায় পচা গোবর সার ও নতুন ফাঁপা মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে। এর পর খড় বা পাতা দিয়ে ঢেকে গ্রীষ্মের প্রখর রোদ থেকে গাছের শিকড়কে রক্ষা করতে হবে। শীতকালে গাছ ছাটার পর, প্রতি টবে ৩ মুঠা গুঁড়া গোবর সার ও ১ মুঠা স্টিমড হাড়ের গুঁড়া বা স্টেরামিল প্রয়োগ করিতে হইবে। পরবর্তীতে পুরো শীতকালে ১ মাস পর পর ১ মুঠা করে স্টিমড্ বোন মিল বা স্টেরামিল প্রয়োগ করতে হবে।

গোলাপ গাছে বেশি ফুল উৎপাদনের জন্য পাতার সার ও ফলিয়ার স্প্রের জনপ্রিয়। কয়েকটি রাসায়নিক সার মিশিয়ে এই সার প্রস্তুত করতে হয়। শীতকালে সকাল ৮টার মধ্যে ফলিয়ার স্প্রে করতে হয়। দুই প্রকারের পাতা সার গাছে ব্যবহার করা হয়, ১টি গাছের স্বাস্থ্য ও ফুল ভাল করার জন্য অপরটি ট্রেস এলিমেন্টের জোগান দেয়ার জন্য, যেমন- ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ডাই-পটাশিয়াম ফসফেট প্রতিটি ১০ গ্রাম করে ১০ লিটার পানিতে গুলে স্প্রে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। ট্রেস এলিমেন্টের জন্য ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ২০ গ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট ১৫ গ্রাম, ফেরাস সালফেট ১০ গ্রাম, বোরাক্স ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রতি লিটার পানিতে উল্লেখিত মিশ্রণটির ২ গ্রাম করে গুলিয়ে স্প্রে করতে হবে। দুইটি পাতা সারের সাথেই কীটনাশক বা বালাইনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা যায় কিন্তু দুটি সার এক সাথে মিশিয়ে স্প্রে করা যাবে না।

পাতার সার টবের গোলাপের জন্য অপরিহার্য এবং জমির গোলাপের জন্য উপকারী। পাতার দুদিকেই ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। রাসায়নিক তরল সারের পরিবর্তে গোবর ও সরিষার খৈল ৪/৫ দিন পানিতে পচিয়ে তরল করে সপ্তাহে ২ দিন করে ব্যবহার করা যাবে। গাছের নতুন ডাল-পালা বাড়াতে ও ফুলের আকার বড় করতে এ ধরনের তরল সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরল সারের অভাবে ছোট মাছপঁচা পানি গাছের গোড়ায় দেওয়া যাবে। দুর্বল গাছে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম করে ইউরিয়া মিশিয়ে সকাল বিকাল পাতায় স্প্রে করলে গাছ তাজা থাকে।

চুন-পানি প্রয়োগঃ প্রতি লিটার পানিতে ১ চামচ গুড়ো চুন পরিস্কার পানিতে ভালোভাবে গুলে পাতলা ন্যাকড়ায় ছেঁকে প্রতি ৩ মাস পর পর দিতে হয়। চুন-পানি দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অন্য কোন সার না দিয়ে শুধু পানি দিতে হবে।

গাছ ছাঁটাইঃ মৃত ও রোগআক্রান্ত ডাল অপসারনের জন্য, গাছের উপযুক্ত আকৃতি প্রদানের জন্য, প্রতিটি ডালে ফুল আসার জন্য এবং প্রয়োজনীয় রোদ্র পাওয়ার জন্য নিয়মিত গাছ ছাটাই করতে হয়। গোলাপ হলো প্রচুর শাখা বিস্তারকারী গুল্ম জাতীয় গাছ। গাছের ফুল দেওয়া শেষ হলেই গাছ ছেঁটে দিতে হবে। নিয়মিত গাছ ছাঁটাই করলে বেশি ও বড় আকারের ফুল পাওয়া যায়। বর্ষার পর অক্টোবর-নভেম্বর মাস ছাঁটাইয়ের জন্য উপযুক্ত সময়। সাধারণত ২০-২৫ সেমি (৮-১০ ইঞ্চি) বড় রেখে ডাল ছেঁটে দিতে হয়। ডাল এমনভাবে কাটতে হবে যাতে থেঁতলে বা ছিঁড়ে না যায়। এ জন্য ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হয়। সাদা, হলুদ, হালকা হলুদ ও দো-রঙা জাতের গোলাপ গাছ খুব হালকা ছাঁট আর লাল জাতের গোলাপ গাছে শক্ত ছাঁট দিতে হবে।

গাছ ছাঁটাইয়ের পর ডাইব্যাক রোগের আক্রমণ হতে পারে। সুতরাং গাছ ছাঁটাইয়ের আগে ও পরে কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক দুটোই প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ-পোকা দমনঃ শুঁয়ো পোকা বা অনিষ্টকারী অন্য যে কোন পোকা দেখা মাত্র ধরে মেরে ফেলতে হবে। লাল মাকড়সার আক্রমণ ও ডাইব্যাক রোগই বেশ মারাত্মক। গোলাপ গাছের নানা অংশ কালো হয়ে মরে যাওয়া। এ রোগটিকেই ডাইব্যাক বলে। গাছের রোগাক্রান্ত অংশটি কেটে ফেলে ডাইথেন এম-৪৫ ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।